বিদায় বন্ধু,বিদায়

উক্তি -দম্ভোক্তি

সরকারের  পক্ষে  কারো  বেডরুম  পাহাড়া দেয়া  সম্ভব  নয়,হাসিনা


সরকারকে  লেংড়া-লুলা   করে দেব,খালেদা

পুরানো সংখ্যা

নাগাসাকিতে বাংলা নববর্ষ

By A Web Design

শেয়ারবাজারে দরপতন

 

শেয়ারবাজারে দরপতন, বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ
ও ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যা
মাকসুদুল আলম, টোকিও, জাপান

বিগত ১৭ জানুয়ারি ২০১২ (মঙ্গলবার)ঢাকা থেকে প্রকাশিত আমার দেশ পত্রিকার একটি খবর আমার নজর কাড়ে। খবরটি ছিলো, রাজধানীর মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ১৮ তলা পিপলস ভবনের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক রতন (৩৫) আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তাত্ক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তার ভাই কাজল জানান, পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন, শেয়ার ব্যবসায় ক্ষতি ও লোকসানের দায়ে রতন আত্মহত্যা করেছেন। রতনের আত্মহত্যার কারণ যাই হোক না কেন, দেশের সবচেয়ে বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) শেয়ারবাজারে অব্যাহত বড় ধরনের দরপতনে ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা যে প্রতিদিনই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করছেন, তা কমবেশী আমাদের সবারই জানা। দরপতনের প্রতিবাদে DSE ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে, মতিঝিল শাপলা চত্বরমুখী রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া সহ প্রতিদিনই ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিনিয়োগকারীরা প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়া থেকে শুরু করে তাদের পদত্যাগেরও দাবি জানাচ্ছেন। শেয়ারবাজারে দরপতনের এই বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন আগ থেকেই লেখার ইচ্ছা থাকলেও, পারিবারিক নানা কর্মব্যস্ততা ও দেশের সংবাদমাধ্যম গুলোতে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ায় আর লেখা হয়ে উঠেনি।      

সাধারণত শেয়ারবাজারে ২ ধরনের বিনিয়োগকারী থাকে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী (Individual Investor) ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী(Institutional Investor) । ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী হচ্ছে, লাখ লাখ সাধারণ মানুষ, আমার আপনার ভাইবোন, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, যাদের বড় অংশ বাজার ভালো বোঝেন না, ভালো শেয়ার চেনেন না, গুজব ছাড়া অন্য কিছু কানে তোলেন না, কখন শেয়ার কিনতে হয় ও বিক্রি করতে হয়, জানেন না। আর বাংলাদেশের বেলায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হচ্ছে, যেসব উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার জন্য শেয়ারবাজারে ছুটে আসেন, শেয়ারের মূল্যসূচকে একবার চাঙ্গাভাব দেখা দিলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরকে উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনিয়ে যেকোনোভাবে বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেন। দেশের জাতীয় অর্থনীতি নি্যে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। রতন আত্মহত্যা করলো নাকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে মিছিল হলো, তা নিয়েও তারা ভাবেন না।
দেশের শেয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়টি বোঝার জন্য একটু পেছন থেকে শুরু করা যাক। ৯০ দশকে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ব্যবসার একটি অংশের প্রবণতা ছিল, একের পর এক কোম্পানি খুলে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া। যে কারণেই হোক না কেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেয়া এই ঋণের বড় অংশই আর পরিশোধ করা হয়নি। ফলে ঋণ খেলাপী হয়ে পরবর্তিতে এই টাকা তুলে নেয়ার জায়গা হিসেবে বাছাই করা হয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে বা দেশের শেয়ারবাজারকে। ধীরেধীরে নানাকারণে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেয়ার সুযোগ কমলেও, এই প্রবণতা বন্ধ হয়নি আজ পর্যন্ত্য কখনই। বিগত বছরগুলোতে দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ বা তথাকথিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী তাদের সব সঞ্চয় নিয়ে, কেউ নিজের জমা করা টাকা দিয়ে, কেউ সঞ্চয়পত্র ভেঙে, কেউ লোভের ফাঁদে পড়ে সম্পত্তি বিক্রি করে, আবার কেউ ধারদেনা করে হলেও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নামে জুয়া খেলায় মেতে উঠে। সর্বস্তরের মানুষ কাজকর্ম ছেড়ে বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। কিন্তু সেই অনুপাতে বাজারে শেয়ারের সংখ্যা বাড়েনি। কাজেই সীমিত সংখ্যক শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের বাড়তি চাপে বাজার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে পারে না। আর তাই অচিরেই দেশের প্রায় সবকটি কোম্পানীর শেয়ার অতিমুল্যায়িত হয়ে যায়। ২০১০ সালের দিকে খুব বেশী চাঙ্গা হয়ে উঠে দেশের শেয়ারবাজার।শেয়ারবাজার পরিণত হয়, স্বল্প সময়ে কয়েকগুণ লাভের বাজারে। আমার আপনার ভাইবোন, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাই ছুটে আসে সেই অতিমুল্যায়িত শেয়ারবাজারে। আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বা সাধারণ জনগণের এই উম্মাদনার সুযোগ নেয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। তারা জাতীয় অর্থনীতির তোয়াক্কা না করে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরকে উচ্চমূল্যে সব শেয়ার কিনিয়ে ফেলেন। এতে করে বাস্তবতার সাথে একেবারেই সঙ্গতিহীন কৃত্রিম মূল্যসূচকের (Virtual Index) আবির্ভাব ঘটে। পরবর্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে এই টাকা তুলে নিলে, দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়।সাধারণ জনগণ সারাজীবনে আয় করা পুঁজি হারিয়ে কেউ আত্মহত্যা করেন, কেউ হার্ট অ্যাটাকে মারা যান, আবার কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তারা জীবনের সর্বস্ব খুইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন।মূলতঃ এটিই হচ্ছে দেশের শেয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের সারসংক্ষেপ।
শেয়ারের মূল্যসূচকে চাঙ্গাভাব দেখা দিলে আবার তা নীচে নামবে, এটাই নিয়ম। মূল্যসূচক উঠার একটি চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে। ওই পর্যায়ে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে আবার তা নিচের দিকে নামতে বাধ্য। এটি শেয়ারবাজারে কোনো অবাস্তব বা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়।দেশের বেশিরভাগ সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষ বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অনেক সময় ঝুঁকি নিয়েও শেয়ার কেনেন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ মানেই জুয়া খেলা নয়। কখন শেয়ার কিনতে হবে, কখন বিক্রি করতে হবে, তা ভালো করে বুঝতে হবে। কোনও কোম্পানীর শেয়ার অতিমুল্যায়িত হয়ে গেলে, তা নিয়ে লেনদেন করা খুবই বিপদজনক।শেয়ারবাজার যেমন ক্যাসিনো নয়, তেমনি মুদির দোকানও নয়।এই ব্যবসা সবার জন্য নয়।
দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও কেন্দ্রীয় (বাংলাদেশ) ব্যাংকের উচিত অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা।
১. সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হচ্ছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC)কে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে পুনর্গঠিত করা এবং শেয়ারবাজার সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা। Risk বা ঝুঁকি সম্পর্কে Public Awareness বা গণসচেতনতা বাড়াতে হবে, বিনিয়োগের ঝুঁকি বোঝাতে প্রয়োজনে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার দিতে হবে। যেহেতু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা, তাই এর লাভ-লোকসানের দায়-দায়িত্ব বিনিয়োগকারীদের উপর। এই দায়িত্ব পুঁজিবাজারে যারা বিনিয়োগ করবে, তাদেরকেই নিতে হবে। নিজ দায়িত্বে বিনিয়োগ করতে হবে। লাভ হলে যেমন নিজের হবে, লোকসান হলেও নিজের হবে।
২. শুধুমাত্র এককভাবে বিনিয়োগকারীদের দোষারোপ করলেই হবে না। পুঁজিবাজারের সূচক ও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দেশের জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ও সে তুলনায় বাস্তবসম্মত কিনা তা বিচার বিশ্মেষণ করতে হবে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বা হর্তাকর্তাদের। GDP প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (CPD) মত নিরপেক্ষ সংস্থার বক্তব্যকে টোটালি রাবিশ, বোগাস ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করবেন, অথচ কি করলে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হবে তা আমার জানা নেই বলে নিজ দায়িত্বকে টোটালি এড়িয়ে যাবেন, এমন অর্থমন্ত্রীর কোনও দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না। কিছুদিন আগে পত্রিকা মারফতে জানলাম যে, এই মন্ত্রী নাকি নিজের ছেলেকে নিয়ে ঢাকা থেকে গাজীপুর যেতেও উড়োজাহাজ ব্যবহার করে সরকারী অর্থ অপচয় করতে কার্পণ্য করেন না। সে যাই হোক, আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর নিতে চাই না। শুধু এইটুকু বুঝি যে, শেয়ারবাজারের লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করতে না চাইলে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, ও প্রয়োজনে শাস্তির বিধান রাখতে হবে।
৩. বাজারকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী ও বেসরকারি খাত বিষয়ক সকল উপদেষ্টাদের দাপট থেকে প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। বাজার চলবে তার নিজস্ব গতিতে, দেশের জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাস্তবসম্মতভাবে। শেয়ারবাজারে চিহ্নিত খেলোয়াড়দের নানারকম কারসাজির মাধ্যমে নয়। মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণকে বিপজ্জনক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হলে অনতিবিলম্বে বিনিয়োগকারীদেরকে সতর্ক করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।
৪. বড় অংকের ঋণ খেলাপী ও অর্থ সংক্রান্ত ব্যাপারে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরকে বাজার সংক্রান্ত পদ থেকে দ্রুত অব্যাহতি দিতে হবে বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে।নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বড় দায়িত্ব রয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের। বাস্তবে তারা কি কাজ করছে, আমার জানা নেই। তাদের মূল কাজ বাজারকে সুচারুভাবে পরিচালিত করা। বিগত বছরগুলোতে তারা তা করতে পারেনি। আবার দায়ের ভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককেও নিতে হবে। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূল কাজ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা নয়। ঋণ খেলাপী ও অর্থ সংক্রান্ত ব্যাপারে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরকে চিহ্নিত করা সহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূল কাজ তদারকি করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককেই। তারাও তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি একেবারেই।
৫. বেসরকারি খাতকে আকৃষ্ট করতে প্রবর্তন করা বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে যারা বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলেছে বা তুলবে, তাদেরকে মোটা অংকের জরিমানার ব্যবস্হা করতে হবে। এছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শেয়ার বাজার থেকে কত মুনাফা করেছে তার হিসাব প্রকাশ করতে হবে ও তার উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করতে হবে।
৬. অতীতের সব কেলেংকারির বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে। বাজার কারসাজি খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।বিগত বছরগুলোতে বাজার মোটেই তার নিজস্ব গতিতে বা শক্তিতে চলেনি। তদারকির অভাব, একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত, কারসাজি, নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর লোভের ফল আজকের বাজার। বাজার তদারকির মূল কাজ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের। গত কয়েক বছরে অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি এবং বারবার সিদ্ধান্ত বদল করেছে। এ সময় এসইসিকে পরামর্শ দেওয়ার সরকারী ও বেসরকারি উপদেষ্টাদের সংখ্যাও কম ছিল না। যে যার মতো পরামর্শ দিয়ে গেছে এসইসিকে। এদের মধ্যে স্বার্থান্বেষী মহলই ছিল বেশি। ফলে বারবার সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তন করিয়ে বাজারকে অতিমুল্যায়িত করা হয়েছে।
৭. মিথ্যা তথ্য দেওয়া নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
৮. বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা ঘোষণা বন্ধ করতে হবে।
৯. পুজি বাজারের আয়ের উপর কর আরোপ করতে হবে।

 

সাহারা

Lalon-Bangla Movie

কমিউনিটি

 টোকিও বৈশাখী মেলা  উদযাপিত